ড্রিমলিনাক্স – সহজ এবং ব্যবহারবান্ধব লিনাক্স ডিস্ট্রো

সম্প্রতি বের হয়েছে ড্রিমলিনাক্সের নতুন ভার্সন ড্রিমলিনাক্স ৩.০। এটি খুবই ব্যবহারবান্ধব এবং সহজবোধ্য করে তৈরি করা হয়েছে। ড্রিম লিনাক্সে ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট হিসাবে নোম এবং এক্সএফসিই ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে ড্রিমলিনাক্সের নোম এনভায়রনমেন্ট এর কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছি…
ছবি
চিত্র: ড্রিমলিনাক্স ডেস্কটপ(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

ড্রিমলিনাক্স মূলত: একটি বিনোদনধর্মী লিনাক্স ডিস্ট্রো। এতে মাল্টিমিডিয়া এবং আইক্যান্ডি বা গ্রাফিক্যাল ইফেক্টের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সহজে প্রয়োজনীয় ড্রাইভার, কোডেক এবং জনপ্রিয় সফটওয়্যার ইন্সটলের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। নিচের ছবিটি দেখুন….
ছবি
চিত্র: ড্রিমলিনাক্স ইজি-ইন্সটল(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

ড্রিমলিনাক্সে বিভিন্ন সেটিং সহজে পরিবর্তন করার জন্য একটি কন্ট্রোল প্যানেল রাখা হয়েছে। এখানে সাউন্ড কার্ড কনফিগার, কম্পিজ ফিউশন/এমেরাল্ড থিম সহ অন্যান্য অনেক প্রয়োজনীয় ফিচারে মাত্র একটি মাউস ক্লিকের সাহায্যে প্রবেশ করতে পারবেন….
ছবি
চিত্র: ড্রিমলিনাক্স কন্ট্রোল প্যানেল(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

উইন্ডো ম্যানেজমেন্ট এবং সফটওয়্যার লঞ্চার হিসাবে প্যানেলের পাশাপাশি ড্রিমলিনাক্সে আছে জনপ্রিয় ডক এবং উইন্ডো নেভিগেটর সফটওয়্যার Avant Window Navigator বা সংক্ষেপে AWN. এটি অনেকটা ম্যাকের জুমি বার এবং উইন্ডোজের রকেট ডক/অবজেক্ট ডকের মত। এতে আপনি প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, স্থান বা ফোল্ডার শর্টকাট আইকন হিসাবে রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজনের সময় মাত্র একটি ক্লিকের সাহায্যে সফটওয়্যার বা স্থানটি চালু করতে পারবেন। শর্টকাট লঞ্চারের পাশাপাশি এটি উইন্ডো ম্যানেজার হিসাবেও কাজ করে… কোন উইন্ডো ওপেন করলে শর্টকাটসমূহের ডানদিকে সেটি আইকন হিসাবে প্রদর্শিত হবে….
ছবি
চিত্র: AWN উইন্ডো ম্যানেজার(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

এবার দেখা যাক ড্রিমলিনাক্সে কি-কি সফটওয়্যার ডিফল্টভাবে দেয়া আছে……
গান শোনার জন্য ড্রিমলিনাক্সে আছে জনপ্রিয় রিদমবক্স মিউজিক প্লেয়ার। গান শোনার পাশাপাশি মুভি দেখার জন্য আছে Gxine এবং Mplayer. গ্রাফিক্স এর কাজের জন্য আছে ইঙ্কস্কেপ এবং গিম্পশপ। অডিও সিডি রিপের জন্য আছে সাউন্ড জুসার এবং অডিও ফরম্যাট পরিবর্তনের জন্য আছে সাউন্ড কনভার্টার। অফিসের কাজের জন্য আছে ওপেন অফিস অর্গ, পিডিএফ ও অন্যান্য টেক্সট ফাইল দেখার জন্য ডকুমেন্ট ভিউয়ার। সিডি/ডিভিডি রাইটিং এর জন্য আছে ব্রাসেরো। ওয়েব ব্রাউজিং এর জন্য আছে ফায়ারফক্সের অনুরূপ আইসউইসেল ব্রাউজার এবং চ্যাট এর জন্য আছে জনপ্রিয় ইন্সট্যান্ট মেসেজিং সফটওয়্যার পিজিন। মডেম দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগের জন্য এতে নোম পিপিপি সফটওয়্যার ডিফল্টভাবে দেয়া আছে। ডেস্কটপ এনভায়রন্টমেন্ট হিসাবে আছে নোম এবং এক্সএফসিই। এতে কোন গেম নেই তবে ব্যবহারকারী চাইলে লিনাক্স সমর্থিত যেকোন গেম ইন্সটল করতে পারবেন।
ছবি
চিত্র: ড্রিমলিনাক্স নোম নটিলাস(এক্সপ্লোরার)(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

একনজরে ড্রিমলিনাক্সের বিশেষ সুবিধা এবং অসুবিধাসমূহ:

বিশেষ সুবিধা:
১। খুব দ্রুত বুট হয়। বুট হতে উবুন্টুর প্রায় অর্ধেক সময় নেয়।
২। সহজবোধ্য ইন্টারফেস। জনপ্রিয় সফ্টওয়্যার, কোডেক এবং ড্রাইভার সহজে ইন্সটলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে।
৩। কম্পিজ এবং এমেরাল্ড খুব সহজে এনেবল করা যায়। গ্রাফিক্যাল ইফেক্ট উবুন্টু গাটসির চেয়ে স্মুথ এবং স্টেবল।
৪। থিম, আইকন এবং কার্সর দেখতে সুন্দর। পছন্দমত জিটিকে বা এমেরাল্ড থিম ব্যবহার করা যায়। বেশ কিছু এমেরাল্ড থিম ডিফল্ট দেয়া আছে।
৫। রুট পাসওয়ার্ড যাতে বারবার প্রয়োগ করতে না হয় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে। ব্যবহারকারী চাইলে প্রথমবার রুট পাসওয়ার্ড দেয়ার সময় ওই সেশনে যাতে আর পাসওয়ার্ড দিতে না হয় সে অপশন নির্বাচন করতে পারেন।
৬। কম্পিজের ডেস্কটপ কিউব প্লাগ-ইন দিয়ে পাশাপাশি চারটা ডেস্কটপ চালানো যায়।

অসুবিধা:
১। উবুন্টুর মত Add/Remove Application ম্যানেজার নেই। সবকিছু সাইনাপ্টিক বা apt-get দিয়ে ইন্সটল করতে হয়। এতে নতুন লিনাক্স ব্যবহারকারীদের কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।
২। ডেবিয়ান প্যাকেজ সরাসরি ইন্সটল করা যায় না। তবে প্রয়োজনীয় কনফিগারেশন করে নিলে ইন্সটল করা যেতে পারে।
৩। বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট ইন্সটলের সময় বাংলা ফন্ট ইন্সটল হয় না। আলাদাভাবে বা সাইনাপ্টিক দিয়ে ইন্সটল করে নিতে হয়।
৪। সাউন্ড সাপোর্টে কিছুটা সমস্যা আছে। আলসা কনফিগ চালিয়ে এবং সব কোডেক ইন্সটল করার পরও আমার সাউন্ড কার্ডে কোন শব্দ পাচ্ছি না। তবে ড্রিমলিনাক্স ফোরামে অভিযোগ করলে সমাধান পাওয়া যেতে পারে।

সবশেষে বলা যায়…. নতুন প্রজন্মের জন্য এবং বিনোদনপ্রিয় ব্যবহারকারীদের জন্য একটি চমৎকার অপারেটিং সিস্টেম হতে পারে ড্রিমলিনাক্স ৩.০। যাদের কম্পিউটারে উবুন্টু চালানোর জন্য পর্যাপ্ত Ram বা প্রসেসর নেই তারাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। হার্ডডিস্ক ছাড়াই কম্পিউটার চালাতে পারবেন ড্রিমলিনাক্স লাইভ সিডি বা পেন-ড্রাইভ সংস্করণ দিয়ে। এছাড়াও এতে অন্যান্য লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনের মতই ফ্র্যাগমেন্টেশনবিহীন ext3 ফাইল সিস্টেম, বাংলা ভাষার সমর্থন, উচ্চগতি এবং সিস্টেম রিসোর্সের সুষ্ঠু ব্যবহার, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ইত্যাদি সব সুবিধাই আছে।

ড্রিমলিনাক্স ৩.০ বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন এই সাইট থেকে…

রিলিজ হলো উবুন্টু ৮.০৪ (হার্ডি হ্যারন)

কিছুদিন আগে (এপ্রিল ২৪, ২০০৮ সাল, ১১ই বৈশাখ ১৪১৫ বঙ্গাব্দ) উবুন্টু লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনের অষ্টম সংস্করন উবুন্টু ৮.০৪ (হার্ডি হ্যারন) রিলিজ করেছে ক্যানোনিক্যাল লিমিটেড। এই রিলিজটি উবুন্টু ৬.০৬ (ড্যাপার ড্রেক) এর পর দ্বিতীয় এলটিএস (লং টার্মস্ সাপোর্ট) ভার্সন হিসেবে রিলিজ হয়েছে। এলটিএস ভার্সনের সুবিধা হচ্ছে ক্যানোনিক্যাল উক্ত ভার্সনটি ডেস্কটপ এডিশনে মুক্ত হবার দিন থেকে ৩ বছর ও সার্ভার এডিশনে মুক্ত হবার পর ৫ বছর পর্যন্ত সয়ংক্রিয় আপডেট ও অন্যান্য সাহায্য ও সহযোগিতা দিবে।

ডেস্কটপ:

উবুন্টু ৮.০৪ এলটিএস ডেস্কটপ ভার্সন রিলিজ হয়েছে।

এই নতুন রিলিজে সর্বশেষ স্টেবল এ্যাপ্লিকেশনের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সাপোর্ট যুক্ত হয়েছে।

উবুন্টু ৮.০৪ এলটিএস ভার্সন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী, প্রস্তুতকারক এবং ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আসবে। ডেস্কটপ ভার্সনে তিন বছরের সাপোর্ট ও মেইনটেনেন্স সুবিধা থাকায়
৮.০৪ বড় পরিসরে ব্যবহারের জন্য উপযোগী। উবুন্টুর জন্য প্রস্তুতকৃত ক্রমবর্ধমান বিপুল সংখ্যক বিনামূল্যের ও সেই সাথে বানিজ্যিক সফটওয়্যারসমূহ ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের জন্য উবুন্টু ব্যবহার বৈচিত্রময় করে তুলবে।

উবুন্টু হার্ডি হ্যারন উবুন্টুর অষ্টম ডেস্কটপ সংস্করণ। ক্যানোনিক্যাল লিমিটেড নিয়মিতভাবে প্রতি ছয় মাস পর পর উবুন্টুর নতুন সংস্করন রিলিজ করছে, যেটি একটি বানিজ্যিক অপারেটিং সিস্টেম হলেও সম্পূর্ন বিনামূল্যে
নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, পরিপূর্ণ সাপোর্ট সম্বলিত অপারেটিং সিস্টেম এবং উবুন্টুর মূল বৈশিষ্ট এটি সবসময়ই অনন্য।

* সর্বশেষ ও সর্বোন্নত সফটওয়্যারের সমাহার *

উবুন্টু ৮.০৪ এলটিএস লিনাক্স ডেস্কটপের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করে। হার্ডি রিলিজে গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন সফটওয়্যারের সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য সংস্করণ অন্তুর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উবুন্টু হার্ডি রিলিজই হচ্ছে সর্বপ্রথম লিনাক্স ডিস্ট্রো যেটি ফায়ারফক্স ৩ লক্ষাধিক ব্যবহারকারীর দোরগোড়ায় পৌছে দিচ্ছে। লিনাক্স ও ফায়ারফক্সের এই সংমিশ্রন উবুন্টু ৮.০৪-কে একটি চমৎকার ওয়েব ডেস্কটপে রূপান্তর করে।
ফায়ারফক্স ৩ দ্রুততম ওয়েব ব্রাউজিং -এর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভাইরাস, ইন্টারনেট জালিয়াতিসহ স্পাইওয়্যারের সামনে সিস্টেমকে অনাবৃত করার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। মজিলা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন লিলি বলেন, “লক্ষাধিক ব্যবহারকারী উবুন্টুর মাধ্যমে যে ফায়ারফক্স ৩ ব্যবহারের প্রথম সুযোগ পাবে এই জন্য মোজিলা ফাউন্ডেশনের আমরা সবাই খুবই সন্তুষ্ট। উবুন্টু ও ফায়ারফক্স এটাই দেখায় যে মুক্ত সোর্সের প্রযুক্তি কেবল একে অন্যের সাথে ভালো কাজ করেই না, স্বত্বাধিকারীভুক্ত সফটওয়্যারের বিকল্প হিসেবে অনেক ভালো সমাধান হতে পারে।”

উন্নততর ছবি অভিজ্ঞতা: উবুন্টু হার্ডিতে ডিফল্ট ছবি প্রদর্শক সফটওয়্যার হিসাবে থাকছে জনপ্রিয় ছবি প্রদর্শন ও ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার এফ-স্পট। এতে রয়েছে উন্নত ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোন শনাক্তকরণ পদ্ধতি, যার ফলে আপনি খুব সহজেই ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোন থেকে ছবি সংগ্রহ করে সেগুলোতে ট্যাগ লাগাতে পারবেন। সহজেই সাজিয়ে নিয়ে দেখতে, প্রিন্ট করতে এবং মুছে ফেলতে পারবেন আপনার সংগ্রহের ছবিসমূহ। ফ-স্পটের দ্বারা আপনার ছবি অভিজ্ঞতা হবে আগের চেয়ে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যময়।

মিউজিক শেয়ারিং এবং ডাউনলোড: ব্যবহারকারীরা পিএসপি(প্লে স্টেশন পোর্টেবল), আইপড ও অন্যান্য মিউজিক প্লেয়ারে গান আদান করতে পারবেন। ম্যাগনাটিউন অনলাইন মিউজিক স্টোর থেকে কিন‍তে পারবেন গান। সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন অনলাইন রেডিও এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি ডিভাইস সংযুক্ত করতে পারবেন ইউনিভার্সাল প্লাগ এন্ড প্লে বা সংক্ষেপে ইউপিএনপি প্রযুক্তির সাহায্যে।

উন্নততর চলচিত্র: উবুন্টুর নতুন ডিফল্ট মিডিয়া প্লেয়ারের সাহায্যে ইউটিউব সহ অন্যান্য জনপ্রিয় সাইট থেকে সরাসরি স্ট্রিম করে ভিডিও দেখতে পারবেন এবং অনলাইনে অন্যান্যদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন ভিডিও। এটি জনপ্রিয় ওপেন সোর্স মিথটিভিকে সমর্থন করে, ফলে আপনি আপনার প্রিয় টিভি শো দেখতে পারবেন উবুন্টু ডেস্কটপ থেকেই। ব্রাসেরো সিডি বার্নারের সাহায্যে সহজেই লিখতে পারবেন যেকোন ধরণের সিডি বা ডিভিডি।

কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: ইন্টেগ্রেটেড ঘড়ি এবং ক্যালেন্ডার এর সাহায্যে মাত্র একটি ক্লিকের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন জায়গার সময় এবং তারিখ নির্বাচন করা সম্ভব। এছাড়াও এর সাহায্যে বিভিন্ন এপয়েনমেন্ট সম্পর্কে সতর্কতামূলক বার্তা পাওয়া যায়।

সাবলীল ডেস্কটপ: উবুন্টু ৮.০৪ এলটিএস রিলিজ সর্বশেষ নোম এ্যাপ্লিকেশনের সাথে দৃষ্টিনন্দন ভিজুয়্যাল ইফেক্টের সমন্বয় ঘটিয়েছে, যার ফলে এটি হবে আরও মসৃণ, সুদর্শন এবং প্রদান করবে আরও সহজ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা।

*সেবার মান এবং পরিসর*

দীর্ঘতর সাপোর্ট: উবুন্টু ৮.০৪ এলটিএস কে ৩ বছর পর্যন্ত এর সিকিউরিটি আপডেট এবং রক্ষণাবেক্ষণসহ সাপোর্ট দেয়া হবে, ফলে কর্পোরেট এবং স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীরা দীর্ঘতর আপডেট পরিকল্পনা চক্র পাবেন। যারা এ সময়ের সেরা এবং সর্বশেষ এ্যাপ্লিকেশন পেতে চান তারা অক্টোবর ২০০৮ এ উবুন্টুর ৮.১০ ভার্সনে আপডেট করে নিতে পারেন। আর যারা দীর্ঘসময় ধরে সাপোর্ট পেতে চান তারা পরবর্তী এলটিএস রিলিজ পর্যন্ত উবুন্টু ৮.০৪ এলটিএস রিলিজে থেকে যেতে পারেন।

অধিক পরিমাণ এ্যাপ্লিকেশন: ৩০ টিরও বেশি জনপ্রিয় কমার্সিয়াল সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উবুন্টুর ৮.০৪ এলটিএস সংস্করণে তাদের এ্যাপ্লিকেশনের সাপোর্ট দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এডোবি, গুগল,
রিয়াল নেটওয়ার্কস, নিরো, স্কাইপ, কোরেল, প্যারালালস, ফ্লুয়েন্ডো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

ব্যবহারে অধিক সুবিধাপূর্ণ: মাউস গেসচার সাপোর্ট ব্যবহারকারীকে আরো প্রাকৃতিকভাবে উবুন্টু ব্যবহারের আনন্দ এনে দেবে। এছাড়াও এতে যুক্ত করা হয়েছে কন্ঠ নির্দেশিকার জন্য অধিক ভাষার সমর্থন, ধীর কী-সমূহ, জুম সুবিধা এবং আরও অনেক কিছু।

* প্রাপ্তিস্থান*

উবুন্টু ৮.০৪ ডেস্কটপ সংস্করণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন
এই লিঙ্ক থেকে

অনুবাদ করেছেনঃ আশাবাদী এবং আলোকিত

উবুন্টুতে গ্রামীণফোন ইন্টারনেট সংযোগ

গ্রামীনফোন এজ-এর সাহায্যে দিনদিন অনেক মানুষই ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই এখন উবুন্টুতে গ্রামীনফোনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করতে চান। এই লেখাটি লেখা হয়েছে যাতে তারা সহজেই গ্রামীনফোনের এজ ইন্টারনেট সংযোগ চালু করতে পারেন।

গ্রামীনফোন এজ চালু করার জন্য প্রথমে  এই লিঙ্ক থেকে নোম পিপিপি(Gnome PPP) সফ্টওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিন(উবুন্টু রিপোজিটরিতে নোম পিপিপির মূল সংস্করণে কিছু সমস্যা আছে, এই ভার্সনে সমস্যাটি ঠিক করা হয়েছে)। এরপর উবুন্টুতে বুট করে ডাউনলোডকৃত ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করে ইন্সটল প্যাকেজ বাটনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার এজ মডেম/এজ, জিপিআরএস সমর্থিত হ্যান্ডসেট ইউএসবি কেবল দিয়ে সংযুক্ত করুন।

এবার উবুন্টুর Applications>>Internet মেনু থেকে Gnome PPP চালু করুন। Setup মেনু থেকে মডেম অংশের Detect বাটনে ক্লিক করে দেখুন মডেম খুঁজে পায় কিনা**… খুঁজে পেলে INIT Strings মেনুতে গিয়ে INIT 2 তে ডাবল ক্লিক করে at+cgdcont=,,”gpinternet” লিখে Enter চাপুন এবং উইন্ডোটি বন্ধ করুন…
https://i0.wp.com/i200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/InitStrings.jpg

এরপর Options মেনু থেকে নিচের ছবির মত অপশনগুলো নির্বাচন করুন…
https://i2.wp.com/i200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/PPPOptions.jpg

এবার Setup উইন্ডোটি বন্ধ করে দিন। ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড উভয় ঘরেই gp লিখে এবং ফোন নম্বর এর ঘরে *99***1# লিখে Connect বাটনে ক্লিক করুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মডেমটি ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয়ে যাবে এবং ইন্টারনেট ব্রাউজসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করতে পারবেন।

**ডিটেক্ট অপশন থেকে মডেম খুঁজে না পেলে মডেমের ড্রাইভার আলাদাভাবে ইন্সটল করে নিতে হবে। ড্রাইভারের জন্য মডেমের কোম্পানী এবং মডেল নম্বর লিখে গুগলে অনুসন্ধান করুন, উদাহরণ: nokia 3110c modem driver for ubuntu

সহায়তায়: শাহরিয়ার তারিক, উবুন্টু বাংলাদেশ

উবুন্টুতে বাংলা ভাষা সমর্থন এবং বাংলা কী-বোর্ড সেট-আপ

(আমরা অনেকেই আমাদের প্রিয় অপারেটিং সিস্টেমটি বাংলায় দেখতে চাই, আবার সহজে বাংলায়ও লিখতে পছন্দ করি। আপনি প্রয়োজনে উবুন্টু অপারেটিং সিস্টেম বাংলায় পেতে পারেন আবার সহজে প্রভাত লেআউট ব্যবহার করে যেকোনখানে বাংলায় লিখতে পারবেন। আমিও বর্তমানে সবখানে প্রভাত ব্যবহার করে বাংলা লিখি, এমনকি এই লেখাটিও প্রভাত ব্যবহার করে লিখছি। যারা আমার মত এই সুবিধা চান তারা এই লেখাটি অনুসরন করে সহজে বাংলায় কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করুন)

উবুন্টু সহ লিনাক্সের সব ডিস্ট্রিবিউশনেই শুরুতে ইংরেজীকে ডিফল্ট ভাষা হিসাবে নির্বাচন করা উচিৎ। ইন্সটলের সময় ইংরেজী ছাড়া বাংলা বা অন্য কোন ভাষা নির্বাচন করলে নানাবিধ সমস্যা হতে পারে… কারণ উবুন্টু সিডিতে ভাষা সমর্থন পুরোপুরি ভাবে দেয়া থাকে না, ইন্টারনেটের সাহায্যে আপডেট করে নিতে হয়। ভাষা সমর্থন পুরোপুরি ইন্সটলের পর আপনি বাংলাসহ যেকোন ভাষা অপারেটিং সিস্টেমের ডিফল্ট ল্যাংগুয়েজ হিসাবে নির্বাচন করতে পারবেন। এখানে উবুন্টু লিনাক্সে কিভাবে বাংলা ভাষা সমর্থন ও বাংলা টাইপিং এর জন্য প্রভাত ফোনেটিক কী-বোর্ড লে-আউট সেট-আপ করতে হয় সেটি বর্ণনা করছি…

বাংলা সাপোর্ট ইন্সটলের জন্য প্রথমে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হোন। এরপর System>> Administration>> Software Sources এ যান। Ubuntu Softwares ট্যাবে প্রথম চারটি অপশন বাছাই করুন

Free Image Hosting

এবার দ্বিতীয় ট্যাবে যান, এখানে উভয় অপশন নির্বাচন করুন

Free Image Hosting

এবার তারপরের ট্যাবে যান। এখানে Unsupported Updates বাদে অন্যগুলো নির্বাচন করে উইন্ডোটি বন্ধ করে দিন।

Free Image Hosting

এখন আপনি System>> Administration>> Language Support এ ক্লিক করুন। ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট আপডেট সংক্রান্ত কোন তথ্য আসলে সেটি ওকে করুন। সফটওয়্যার প্যাকেজ ডাউনলোড ও ইন্সটল হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
ইন্সটল হয়ে গেলে ল্যাঙ্গুয়েজ লিস্ট থেকে বাংলা নির্বাচন করে Apply করুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাক ইন্সটল হয়ে যাবে। ইন্সটল হয়ে গেলে উইন্ডোটি বন্ধ করে দিন।

Free Image Hosting

এবার System>> Preferences>> Keyboard এ যান। Layouts ট্যাব থেকে Add বাটনে ক্লিক করে Layouts ড্রপডাউন মেনু থেকে বাংলাদেশ এবং Variants মেনু থেকে Probhat সিলেক্ট করে এ্যাড বাটনে ক্লিক করুন।

Free Image Hosting

U.S. English কে ডিফল্ট লে-আউট হিসাবে নির্বাচন করুন।

Free Image Hosting

এবার Layout Options ট্যাবে যান। Group Shift/Lock Behaviour মেনুটি এক্সপ্যান্ড করে পছন্দমত কীবোর্ড লে-আউট পরিবর্তক শর্টকাট(যেমন অভ্রতে F12) নির্বাচন করুন(আমি নিজে Shift+Capslock ব্যবহার করি কারন এটা অন্য কোন শর্টকাটের সাথে কনফ্লিক্ট করে না)। এবার উইন্ডোটি বন্ধ করে দিন।

Free Image Hosting

ব্যাস আপনার বাংলা কী-বোর্ড তৈরি! এবার ওপেন অফিস অর্গ, ফায়ারফক্স বা যেকোন টেক্সট এডিটর, ওয়ার্ড প্রসেসর বা ব্রাউজার চালু করে Shift+Capslock(বা আপনি লেআউট পরিবর্তক হিসাবে যে শর্টকাট নির্বাচন করেছেন) চেপে খাঁটি বাংলায় টাইপ করুন।

Free Image Hosting

কোন কীবোর্ড লে-আউট নির্বাচন করা আছে সেটি দেখতে প্যানেলে Keyboard Indicatior(Right Click on a Panel, Click Add to Panel then select keyboard Indication under the utilities Section) এ্যাপ্লেটটি যোগ করে নিতে পারেন।

Free Image Hosting

প্রভাত লে-আউট এর চিত্র…

Free Image Hosting

সহায়তায়: শাহরিয়ার তারিক, উবুন্টু বাংলাদেশ<!–

উবুন্টু কাস্টমাইজেশন- থিম, আইকন, কার্সর, বুট স্ক্রিণ পরিবর্তন

উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের অনেকেই ডেস্কটপের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য এবং ডেস্কটপে নিজনিজ রুচির পরিচয় দেয়ার জন্য বিভিন্ন থিম, আইকন, কার্সর পরিবর্তক সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন। এসব সফটওয়্যারের মধ্যে উইন্ডোব্লিন্ডস, স্টাইল এক্সপি, আইকন প্যাকেজার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।


উবুন্টু লিনাক্সে আলাদা কোন সফটওয়্যার ছাড়াই এসব কিছুই পরিবর্তন করা যায় System>>Preferences>> Appearance অপশন থেকে। এজন্য আপনি প্রথমে  এই সাইট থেকে আপনার পছন্দের জিনিসগুলো ডাউনলোড করে নিন। এরপর নিচে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ইন্সটল করে নিন…..

থিম ডাউনলোড সাইট:  ক্লিক করুন…
আইকন ডাউনলোড সাইট:  ক্লিক করুন…
কার্সর ডাউনলোড সাইট:  ক্লিক করুন…
স্প্ল্যাশ/ইউস্প্ল্যাশ স্ক্রিণ ডাউনলোড সাইট:  ক্লিক করুন…

থিম ইন্সটলের পদ্ধতি: প্রথমে থিমের সাইট থেকে পছন্দের থিমটি ডাউনলোড করে নিন। এরপর System>> Preferences>> Appearance এ গিয়ে থিম ফাইলটি Theme উইন্ডোতে ড্র্যাগ-ড্রপ করুন।
এরপরই থিমটি ইন্সটল হয়ে যাবে এবং থিমটি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। পরবর্তীতে থিম লিস্ট থেকে পছন্দমত থিম বদল করে নিতে পারবেন…


https://i1.wp.com/i200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/ThemeList.jpg
চিত্র: উবুন্টু থিমের তালিকা

তবে সব থিম স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বিধায় একটি থিম ব্যবহারের সময় অন্য থিম এপ্লাই করলে পূর্ণ ইফেক্ট পাবেন না। এজন্য যেকোন থিম পরিবর্তনের পূর্বে ডিফল্ট(হিউম্যান) থিম এপ্লাই করে নিন।
সরাসরি প্রয়োগ না করে আপনি থিম উইন্ডোর Customize(বাংলায় স্বনির্ধারিত) মেনুর Controls এবং Window Borders ট্যাব থেকে ইচ্ছামত বিভিন্ন থিমের অংশ জোড়া দিয়ে ক্লোন থিম তৈরি করতে পারবেন। এভাবে….


https://i0.wp.com/i200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/CustomButtons.jpg https://i2.wp.com/i200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/CustomBorder.jpg
চিত্র: ক্লোন থিম তৈরি

আইকন ইন্সটলের পদ্ধতি: থিমের মতই প্রথমে আইকনের সাইট থেকে পছন্দমত আইকন প্যাকেজ ডাউনলোড করে নিন। এরপর আইকন ফাইলটি System>> Preferences>>Appearance উইন্ডোতে ড্র্যাগ ড্রপ করে নিয়ে আসুন।
এরপর থিম উইন্ডোর স্বনির্ধারিত/কাস্টমাইজে ক্লিক করে Icons ট্যাবে গিয়ে পছন্দমত আইকন প্যাকেজ নির্বাচন করতে পারবেন….
https://i1.wp.com/i200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/IconSets.jpg
চিত্র: উবুন্টুর আইকনের তালিকা

কার্সর ইন্সটলের পদ্ধতি: থিম এবং আইকনের অনুরূপ। ইন্সটলের পর Customize মেনুর Cursors ট্যাবে গেলেই ইন্সটলকৃত কার্সরগুলো পেয়ে যাবেন…


https://i2.wp.com/i200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/CursorSets.jpg
চিত্র: উবুন্টুর কার্সর সেটের তালিকা

ইউস্প্ল্যাশ/বুটস্ক্রিণ পরিবর্তনের পদ্ধতি: প্রথমে Applications>> Accessories(বাংলায় অ্যাপ্লিকেশনসমূহ>> আনুষঙ্গিক) থেকে টার্মিনাল-এ ক্লিক করুন। এরপর sudo -i লিখে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড দিয়ে রুট ইউজার হোন।
এবার sudo apt-get install startupmanager লিখে এন্টার করুন। প্যাকেজটি ডাউনলোড এবং ইন্সটল হয়ে গেলে টার্মিনাল বন্ধ করে দিন।
এবার ডাউনলোড সাইট থেকে পছন্দের ইউস্প্ল্যাশ থিমটি ডাউনলোড করে নিন(লক্ষ্য করুন সাইটটির সব থিম কিন্তু ইউস্প্ল্যাশ নয়, যেগুলোর টাইটেলে “uSplash” শব্দটি লেখা আছে শুধুমাত্র সেগুলোই ইউস্প্ল্যাশ থিম বা বুটস্ক্রিণ)। System>> Administration>> StartUp-Manager এ ক্লিক করুন। স্টার্টআপ ম্যানেজার উইন্ডোর Appearance ট্যাবে গিয়ে নিচের দিকে ম্যানেজ ইউস্প্ল্যাশ থিম বাটনে ক্লিক করুন। এবার Add বাটনে ক্লিক করে ইউস্প্ল্যাশ থিমের .so এক্সটেনশনের(ফাইল এক্সটেনশন যদি .so না হয়ে tar.gz বা এই জাতীয় কিছু হয় তাহলে সেটি একটি আর্কাইভ, .so ফরম্যাটের ফাইলটি এক্সট্রাক্ট করে নিতে হবে) ফাইলটি নির্বাচন করুন। এবার ইউস্প্ল্যাশ থিম ড্রপ ডাউন লিস্ট থেকে ইন্সটলকৃত থিমটি নির্বাচন করে স্টার্ট-আপ ম্যানেজার উইন্ডোটি বন্ধ করুন। কিছুক্ষণ প্রি কনফিগারেশন টাস্কের একটি উইন্ডো দেখিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে এবং এরপর থেকে প্রত্যেক বুটের সময় নতুন ইন্সটলকৃত বুটস্ক্রিণটি দেখতে পাবেন।


https://i2.wp.com/i200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/UsplashTheme.jpg
চিত্র: উবুন্টুতে স্টার্টআপ ম্যানেজারের সাহায্যে বুটস্ক্রিণ পরিবর্তন

লগ-ইন স্ক্রিণ পরিবর্তন: এটিও স্প্ল্যাশস্ক্রিণ ডাউনলোড সেকশনে পাবেন। তবে থিমের টাইটেলে Login Window, Login Theme বা Login Screen কথাটি লেখা থাকবে।
প্রথমে আপনার কাঙ্খিত লগ-ইন স্ক্রিণটি ডাউনলোড করে নিন। এরপর System>> Administration>> Login Window চালু করে Local(বাংলায় স্থানীয়) ট্যাবে যান। এ্যাড বাটনে ক্লিক করে ডাউনলোডকৃত থিমটি নির্বাচন করুন। এরপর থিমের তালিকা থেকে নতুন থিমটি নির্বাচন করে উইন্ডোটি বন্ধ করে দিন।
পরবর্তীতে লগ-ইন এর সময় নতুন লগ-ইন স্ক্রিণটি দেখতে পাবেন।


https://i0.wp.com/i200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/LogonList.jpg
চিত্র: উবুন্টুর লগ-ইন স্ক্রিণ এর তালিকা

এভাবে খুব সহজেই উবুন্টুর নোম ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টে পছন্দের থিম, আইকন, কার্সর ইন্সটল করে নেয়া যায়, আলাদা কোন সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এবং এগুলো উইন্ডোজের মত সিস্টেমের গতি কমিয়েও দেয় না। কাজেই উবুন্টুতে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করুন আপনার পছন্দের থিম, আইকন, কার্সর সেট এবং আপনার ডেস্কটপকে রাখুন সজীব এবং প্রাণবন্ত।
উবুন্টুর বিভিন্ন থিমের কয়েকটি স্ক্রিণশট(বড় আকারের ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)……

 https://i0.wp.com/s200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/th_Style1.jpg  https://i0.wp.com/s200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/th_Style2.jpg  https://i0.wp.com/s200.photobucket.com/albums/aa36/unknown300990/Forum/th_Style3.jpg

সহায়তায়: শাহরিয়ার তারিক, উবুন্টু বাংলাদেশ

উবুন্টু বনাম উইন্ডোজ- কেন লিনাক্স ব্যবহার করবেন?

উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের অনেকেই লিনাক্স ব্যবহার করতে ভয় পান একে জটিল এবং অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি অপারেটিং সিস্টেম ভেবে। তাদের ধারণা পুরোপুরি ভুল নয়… একসময় সত্যিই তাই ছিল। কিন্তু এখন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি হয়েছে উবুন্টু লিনাক্স যা উইন্ডোজের চেয়েও অনেক সহজ এবং ব্যবহারবান্ধব।

এখানে উবুন্টু লিনাক্সের কিছু সুবিধা তুলে ধরছি, এবং একই সাথে উইন্ডোজের দূর্বলতাগুলো উল্লেখ করছি…

নিরাপত্তা:

লিনাক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উইন্ডোজের চেয়ে অনেক উন্নত এবং নিশ্ছিদ্র। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এন্টিভাইরাস এবং ফায়ারওয়াল ইন্সটল করা না থাকলে ভাইরাস/হ্যাকারের আক্রমণ প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু লিনাক্সের সিস্টেম কার্নেল ভাইরাস এবং হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে পুরোপুরি মুক্ত। কাজেই কোন ধরণের সিকিউরিটি সফ্টওয়্যার(এন্টিভাইরাস/ফায়ারওয়াল ইত্যাদি) ছাড়াই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন উবুন্টু লিনাক্স।

স্বয়ংসম্পূর্ণ:

অনেকেই মনে করেন উইন্ডোজ লিনাক্সের চেয়ে অধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু এ ধারণা পুরোপুরি ভুল। উইন্ডোজের কোন সিস্টেম ফাইল মুছে গেলে বা ভাইরাসের আক্রমণে সিস্টেম কার্ণেলের কোন অংশের ক্ষতি হলে উইন্ডোজ নিজে থেকে ঠিক করতে পারে না, ব্যবহারকারীকে ট্রাবলশুট করে ঠিক করতে হয়। আর পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়া উইন্ডোজের অনেক ত্রুটি ঠিক করা সম্ভব নয়। ফলে একমাত্র সমাধান- উইন্ডোজ রি-ইন্সটল। এছাড়াও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এনটিএফএস ফাইল সিস্টেমের ক্ষতি হলেও উইন্ডোজ অনেক সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে chkdsk কমান্ড ব্যবহার করে না। এর ফলে প্রয়োজনীয় ফাইল ও ডকুমেন্ট সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থেকে যায়।

অপরদিকে উবুন্টু লিনাক্সে এ ধরণের কোন সমস্যা উইন্ডোজের তুলনায় অনেক কম। কোন কারণে সমস্যা হলেও উবুন্টুর বুট মেনু থেকে রিকভারি মোড চালু করলে উবুন্টু নিজে থেকে সম্ভাব্য সবধরণের সমস্যা খতিয়ে দেখে এবং নিজে থেকেই সবকিছু ঠিক করে নেয়, ব্যবহারকারীকে কিছুই করতে হয় না। ফাইল সিস্টেমের সমস্যা হলে উবুন্টু সেটিও ঠিক করে নেয়।

এছাড়াও উইন্ডোজে সব ধরণের হার্ডওয়্যারের ড্রাইভার ডিফল্ট দেয়া থাকে না… খুঁজে নিয়ে ইন্সটল করতে হয়। আর লিনাক্সে বহু ড্রাইভার ডিফল্টভাবেই দেয়া থাকে।

ব্যবহারবান্ধব:

উবুন্টু লিনাক্স উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের চাইতে অনেক সহজ এবং ব্যবহারবান্ধব। উবুন্টুতে সব কাজের জন্য আলাদা-আলাদা বিভাগে বিভক্ত করা সফ্টওয়্যার ইন্টারনেটে রিপোজিটরিতে জমা থাকে এবং উবুন্টুর এ্যাপ্লিকেশন ম্যানেজার ব্যবহার করে ব্যবহারকারী পছন্দমত সফ্টওয়্যার ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে পারেন। স্ক্রিণশট দেখুন…

চিত্র: উবুন্টু এ্যপ্লিকেশন ম্যানেজার(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন)

উবুন্টুর সফ্টওয়্যারগুলো ইন্সটল করতে কোন ধরণের প্রোগ্রামিং দক্ষতার প্রয়োজন নেই।

উবুন্টুর ডেস্কটপ উইন্ডোজের চাইতেও অনেক কার্যকরী, সহজে পরিবর্তনযোগ্য এবং ব্যবহারবান্ধব। উইন্ডোজের টাস্কবারের বিকল্প হিসাবে উবুন্টুতে আছে প্যানেল নামে উইন্ডোজ টাস্কবারের চাইতেও অধিক ক্ষমতাসমন্ন ডেস্কটপ বার। এগুলোতে আপনি ইচ্ছামত সফ্টওয়্যারের শর্টকাট তৈরি করে নিতে পারেন, বিভিন্ন এ্যাপলেটের সাহায্যে ডেস্টপকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন, আর সেই সাথে উইন্ডোজ টাস্কবারের মত উইন্ডো লিস্ট এবং নোটিফিকেশন এড়িয়া তো থাকছেই!

নিচের ছবিটি দেখুন….

চিত্র: উবুন্টু ডেস্কটপ(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন)

ডেস্কটপ যে এমনই হতে হবে এরকম কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এটা আমার নিজের ডেস্কটপ… উবুন্টুতে ডিফল্টভাবেও এরকম দেয়া থাকে না। আপনি পছন্দমত ডেস্কটপে বিভিন্ন আইকন, এ্যাপলেট, নোটিফিকেশন এড়িয়া সংযোগ/অপসারণ করতে পারবেন। নিচের ছবিটি দেখলে এ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন…


চিত্র: প্যানেলের জন্য আইকন তালিকা(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন)

এছাড়াও উবুন্টুতে একই সাথে দুটি বা তার অধিক ডেস্কটপ/ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করতে পারবেন।

দ্রুততা:

কিছু ত্রুটির কারণে উইন্ডোজ ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে পরে। এ ত্রুটিগুলোর মধ্যে হার্ড ডিস্কের এলোমেলো ফাইলসজ্জা(ফ্র্যাগমেন্টেশন), রেজিস্ট্রির অব্যবহৃত অংশ (Obsolete Registry Entries) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বিভিন্ন ভাইরাস ও স্পাইওয়্যারের আক্রমণের কারণেও উইন্ডোজের গতি হ্রাস পায়।

অপরদিকে লিনাক্সের ext3< ফাইল সিস্টেমে বিশেষ পদ্ধতেতে ফাইলগুলো সজ্জিত করে… ফলে ফ্র্যাগমেন্টেশনের কোন সম্ভাবনা নেই। আর উবুন্টু উইন্ডোজের মত অব্যবহৃত রেজিস্ট্রি এন্ট্রি জমা করে রাখে না। উবুন্টুতে ভাইরাস/স্পাইওয়্যার কোনটিই আক্রমণ করতে পারে না। ফলে বহুদিন ব্যবহারের পরও উবুন্টুর স্বাভাবিক গতি ও কর্মক্ষমতা বজায় থাকে। যেখানে উইন্ডোজ ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে পরে।

গ্রাফিক্যাল ইফেক্ট:

উবুন্টু লিনাক্সে রয়েছে অসাধারণ কম্পিজ ফিউশন ইফেক্ট। যার দ্বারা দৃষ্টিনন্দন উইন্ডো এনিমেশনের পাশাপাশি অত্যন্ত কার্যকরী কিছু ইফেক্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে ট্যাব গ্রুপিং, উইন্ডো ট্রান্সপারেন্সি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ট্যাব গ্রুপিং এর সাহায্যে আপনি কয়েকটি উইন্ডোকে ট্যাব আকারে একত্র করে রাখতে পারবেন এবং উইন্ডো ট্রান্সপারেন্সি ইফেক্টের সাহায্যে যেকোন উইন্ডোকে স্বচ্ছ(ট্রান্সপারেন্ট) করে ফেলতে পারবেন। এগুলো ছাড়াও আরও বহু ইফেক্ট ডিফল্টভাবে দেয়া আছে এবং প্রতিদিন নিত্যনতুন ইফেক্ট ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ডাউনলোডের জন্য দেয়া হচ্ছে।

অপরদিকে উইন্ডোজের নতুন সংস্করণ উইন্ডোজ ভিস্তাতে কিছু গ্রাফিক্যাল ইফেক্ট আনা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই কোন কাজের নয়। এছাড়াও ভিস্তার ইফেক্টগুলো সক্রিয় রাখলে প্রচুর সিস্টেম রিসোর্স (Ram, প্রসেসর) ব্যবহার করে যেখানে উবুন্টুর ইফেক্টগুলো সক্রিয় রাখলেও উইন্ডোজ এক্সপির চাইতেও অনেক কম সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহার করে।

সকল কাজের জন্য পর্যাপ্ত সফ্টওয়্যার:

উবুন্টুতে সকল কাজের জন্যই পর্যাপ্ত সফ্টওয়্যার আছে। উইন্ডোজের মত লক্ষ-কোটি নামী বেনামী সফ্টওয়্যার না থাকলেও এ সফ্টওয়্যারগুলো অত্যন্ত সহজ, সাবলীল এবং উইন্ডোজের সফ্টওয়্যারগুলোর মতই বিভিন্ন ধরণের কাজের উপযোগী।

যেমন: মাইক্রোসফ্ট অফিসের বিকল্প হিসাবে আছে ওপেন অফিস অর্গ, ফটোশপের বিকল্প হিসাবে আছে অসাধারণ একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ফটো এডিটিং সফ্টওয়্যার গিম্প, ডিভিডি/ভিসিডি মুভি দেখার জন্য টটেম, ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার, গান শোনার জন্য রিদমবক্স, বংশি, লিসেন(Listen Music Player) বংশী এবং রিদমবক্সের মত তেমন জনপ্রিয় না হলেও এটা আমার সবচেয়ে প্রিয়), এডোবি রিডারের বিকল্প হিসাবে আছে কেপিডিএফ, এক্সপিডিএফ, ডকুমেন্ট ভিউয়ার ইত্যাদি। এরকম সব ধরণের সফ্টওয়্যারের-ই অসংখ্য বিকল্প আছে উবুন্টুতে… এবং সবগুলোই পুরোপুরি বিনামূল্যে!

বাংলা ভাষার ব্যবহার:

উবুন্টু লিনাক্সের জন্য রয়েছে বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাক, যেটি শুধুমাত্র অপারেটিং সিস্টেমকেই বাংলা করে না বরং বিভিন্ন সফ্টওয়্যারকেও অনেকাংশে বাংলায় অনুবাদ করে। বাংলা লেখার জন্য উবুন্টুতে আছে অত্যন্ত চমৎকার প্রভাত ফোনেটিক লে-আউট। অভ্রে অভ্যস্থতার কারণে প্রথমদিকে প্রভাতে লিখতে সমস্যা হলেও এখন সে সমস্যা কাটিয়ে উঠেছি এমনকি এই আর্টিকেল পুরোটাই প্রভাত দিয়ে লিখছি।

এগুলো ছাড়াও উবুন্টু লিনাক্সে আরও অনেক সুবিধা রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ লিনাক্স ব্যবহারকারীরা আরও ভাল বলতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হল লিনাক্স পুরোপুরি ফ্রি এবং ওপেন সোর্স এবং এতে ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলোও বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আর উইন্ডোজ টাকা দিয়ে কিনতে হয় এবং এর সব সফটওয়্যারও ফ্রি নয়।

এবার আপনিই সিদ্ধান্ত নিন… টাকা দিয়ে কিনে বা চুরি করে ত্রুটিসম্পন্ন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করবেন নাকি বিনামূল্যে বিশ্বের সবচাইতে নিরাপদ অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স এর ব্যবহারবান্ধব সংস্করণ উবুন্টু লিনাক্স ব্যবহার করবেন।