লিনাক্স মিন্ট বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হল

নতুন বছরের সূচনালগ্নে যাত্রা শুরু করছে লিনাক্স মিন্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি। এই উপলক্ষে আজ জানুয়ারি ০১, ২০১০ লিনাক্স মিন্ট বাংলাদেশের অফিসিয়াল সাইট সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।

আপনারা যারা নিয়মিত লিনাক্স ব্যবহারকারী তারা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে লিনাক্স মিন্ট সম্পর্কে জেনে গিয়েছেন। তবে যারা এখনও এর সাথে পরিচিত নন তাদের জন্য লিনাক্স মিন্টের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরছিঃ

লিনাক্স মিন্ট হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেম। এটি জনপ্রিয় লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টু এবং ডেবিয়ানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে এর ইন্টারফেস মার্জিত, উন্নততর এবং ব্যবহারবান্ধব। এতে বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া কোডেক ডিফল্টভাবেই দেয়া আছে, ফলে ইনস্টলেশনের পরেই একটি পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য ডেস্কটপ পরিবেশ পাওয়া যাবে।

মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্সের জগতে লিনাক্স মিন্ট যাত্রা শুরু করেছে ২০০৬ সালে। শুরু থেকেই এটি লিনাক্স প্রেমিদের অন্তরে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে এর সৌন্দর্য্য এবং ব্যবহারবান্ধব পরিবেশের কারণে। প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই লিনাক্স মিন্ট আজ বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমের তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করে নিয়েছে।

লিনাক্স মিন্টের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান এর সাধারণ ব্যবহারকারীদের, যারা তাদের ভালবাসা, সাধনা এবং মেধার দ্বারা লিনাক্স মিন্টের মূল ডেভেলপারদের কর্মপ্রেরণা যুগিয়েছেন। এমনকি নিজেরাও লিনাক্স মিন্টের সার্বিক গঠন এবং উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করে আসছেন। ওপেনসোর্স এবং লিনাক্স জগতের অন্যান্য সফটওয়্যারের মত আমরাও উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও সফটওয়্যার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং আমরা আরও বিশ্বাস করি, আপামর জনসাধারণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে ওপেনসোর্স বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি। কাজেই লিনাক্স তথা ওপেনসোর্স যেন সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যায় এটাই আমাদের মূল প্রচেষ্টা এবং এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সকলেই একতাবদ্ধ।

লিনাক্স মিন্ট বাংলাদেশ কমিউনিটির নেপথ্যের কিছু কথাঃ আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের রয়েছে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠার গৌরোবোজ্জ্বল ইতিহাস, যুগে যুগে বিভিন্ন সময়ে বাঙালীরা লড়েছে অত্যাচারি শোষকের বিরুদ্ধে আর তারই ফলস্বরূপ আজ আমরা নিজেদের একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বের বুকে গর্বের সাথে পরিচয় দিতে পারছি। কিন্তু কম্পিউটার সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে আমরা এখনও পরাধীনতার বেড়াজালে আবদ্ধ। সামাজিক অজ্ঞতা ও অবহেলার কারণে আমরা সফটওয়্যার পাইরেসিকে সবসময় খাটো করে দেখে আসছি। যেখানে বহির্বিশ্বের প্রায় সকল উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহ আজ পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার।

দেশ ও জাতিকে পাইরেসির কলুষতা হতে মুক্তকরণের সবচেয়ে সেরা হাতিয়ার হচ্ছে ওপেনসোর্স, তাই ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের প্রচার ও প্রসার আমাদের দেশে অত্যন্ত জরুরি। ওপেনসোর্স আন্দোলনে বাংলাদেশের লিনাক্স এবং ওপেনসোর্স সংগঠনসমূহের সহযাত্রী হয়েই আজ যাত্রা শুরু করছে লিনাক্স মিন্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি। বাংলাদেশের সকল লিনাক্স এবং ওপেনসোর্স ব্যবহারকারী, স্বেচ্ছাসেবক, ডেভলপার, সর্বোপরি লিনাক্স এবং ওপেনসোর্সে উৎসাহী ব্যক্তিবর্গ আমাদের সাথে অংশ নেয়ার জন্য সাদরে আমন্ত্রিত। আমরা লিনাক্স মিন্ট ব্যবহারকারী, স্বেচ্ছাসেবক ও সফটওয়্যার নির্মাতারা এখানে এক হয়ে নিজেদের সুবিধা-অসুবিধা, চাহিদা ও সমস্যা সমাধান নিয়ে মুক্ত আলোচনা করব, যার ফলে সৃষ্টি হবে নিত্যনতুন ধারণা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে আক্ষরিক অর্থেই শুরু হবে “ওপেনসোর্স বিপ্লব”।

নিজেদের ফোরামে আমাদের জন্য একটি নতুন সাব-ফোরাম বানিয়ে আমাদের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছে প্রজন্ম ফোরাম , আমাদের কমিউনিটি সাইটটি ডিজাইন এবং ডেভেলপ করেছে পিকিউ সফটস এবং আমাদের ডেমেইন এবং হোস্টিং স্পন্সর করেছে জেনেক্স ওয়েব সলিউশন্স। এছাড়াও বন্ধু হিসেবে সব সময় আমাদের পাশে থাকবে রেডিও গুনগুন। তাদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

বিনীত
লিনাক্স মিন্ট বাংলাদেশ দল

ড্রিমলিনাক্স – সহজ এবং ব্যবহারবান্ধব লিনাক্স ডিস্ট্রো

সম্প্রতি বের হয়েছে ড্রিমলিনাক্সের নতুন ভার্সন ড্রিমলিনাক্স ৩.০। এটি খুবই ব্যবহারবান্ধব এবং সহজবোধ্য করে তৈরি করা হয়েছে। ড্রিম লিনাক্সে ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট হিসাবে নোম এবং এক্সএফসিই ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে ড্রিমলিনাক্সের নোম এনভায়রনমেন্ট এর কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছি…
ছবি
চিত্র: ড্রিমলিনাক্স ডেস্কটপ(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

ড্রিমলিনাক্স মূলত: একটি বিনোদনধর্মী লিনাক্স ডিস্ট্রো। এতে মাল্টিমিডিয়া এবং আইক্যান্ডি বা গ্রাফিক্যাল ইফেক্টের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সহজে প্রয়োজনীয় ড্রাইভার, কোডেক এবং জনপ্রিয় সফটওয়্যার ইন্সটলের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। নিচের ছবিটি দেখুন….
ছবি
চিত্র: ড্রিমলিনাক্স ইজি-ইন্সটল(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

ড্রিমলিনাক্সে বিভিন্ন সেটিং সহজে পরিবর্তন করার জন্য একটি কন্ট্রোল প্যানেল রাখা হয়েছে। এখানে সাউন্ড কার্ড কনফিগার, কম্পিজ ফিউশন/এমেরাল্ড থিম সহ অন্যান্য অনেক প্রয়োজনীয় ফিচারে মাত্র একটি মাউস ক্লিকের সাহায্যে প্রবেশ করতে পারবেন….
ছবি
চিত্র: ড্রিমলিনাক্স কন্ট্রোল প্যানেল(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

উইন্ডো ম্যানেজমেন্ট এবং সফটওয়্যার লঞ্চার হিসাবে প্যানেলের পাশাপাশি ড্রিমলিনাক্সে আছে জনপ্রিয় ডক এবং উইন্ডো নেভিগেটর সফটওয়্যার Avant Window Navigator বা সংক্ষেপে AWN. এটি অনেকটা ম্যাকের জুমি বার এবং উইন্ডোজের রকেট ডক/অবজেক্ট ডকের মত। এতে আপনি প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, স্থান বা ফোল্ডার শর্টকাট আইকন হিসাবে রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজনের সময় মাত্র একটি ক্লিকের সাহায্যে সফটওয়্যার বা স্থানটি চালু করতে পারবেন। শর্টকাট লঞ্চারের পাশাপাশি এটি উইন্ডো ম্যানেজার হিসাবেও কাজ করে… কোন উইন্ডো ওপেন করলে শর্টকাটসমূহের ডানদিকে সেটি আইকন হিসাবে প্রদর্শিত হবে….
ছবি
চিত্র: AWN উইন্ডো ম্যানেজার(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

এবার দেখা যাক ড্রিমলিনাক্সে কি-কি সফটওয়্যার ডিফল্টভাবে দেয়া আছে……
গান শোনার জন্য ড্রিমলিনাক্সে আছে জনপ্রিয় রিদমবক্স মিউজিক প্লেয়ার। গান শোনার পাশাপাশি মুভি দেখার জন্য আছে Gxine এবং Mplayer. গ্রাফিক্স এর কাজের জন্য আছে ইঙ্কস্কেপ এবং গিম্পশপ। অডিও সিডি রিপের জন্য আছে সাউন্ড জুসার এবং অডিও ফরম্যাট পরিবর্তনের জন্য আছে সাউন্ড কনভার্টার। অফিসের কাজের জন্য আছে ওপেন অফিস অর্গ, পিডিএফ ও অন্যান্য টেক্সট ফাইল দেখার জন্য ডকুমেন্ট ভিউয়ার। সিডি/ডিভিডি রাইটিং এর জন্য আছে ব্রাসেরো। ওয়েব ব্রাউজিং এর জন্য আছে ফায়ারফক্সের অনুরূপ আইসউইসেল ব্রাউজার এবং চ্যাট এর জন্য আছে জনপ্রিয় ইন্সট্যান্ট মেসেজিং সফটওয়্যার পিজিন। মডেম দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগের জন্য এতে নোম পিপিপি সফটওয়্যার ডিফল্টভাবে দেয়া আছে। ডেস্কটপ এনভায়রন্টমেন্ট হিসাবে আছে নোম এবং এক্সএফসিই। এতে কোন গেম নেই তবে ব্যবহারকারী চাইলে লিনাক্স সমর্থিত যেকোন গেম ইন্সটল করতে পারবেন।
ছবি
চিত্র: ড্রিমলিনাক্স নোম নটিলাস(এক্সপ্লোরার)(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন)

একনজরে ড্রিমলিনাক্সের বিশেষ সুবিধা এবং অসুবিধাসমূহ:

বিশেষ সুবিধা:
১। খুব দ্রুত বুট হয়। বুট হতে উবুন্টুর প্রায় অর্ধেক সময় নেয়।
২। সহজবোধ্য ইন্টারফেস। জনপ্রিয় সফ্টওয়্যার, কোডেক এবং ড্রাইভার সহজে ইন্সটলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে।
৩। কম্পিজ এবং এমেরাল্ড খুব সহজে এনেবল করা যায়। গ্রাফিক্যাল ইফেক্ট উবুন্টু গাটসির চেয়ে স্মুথ এবং স্টেবল।
৪। থিম, আইকন এবং কার্সর দেখতে সুন্দর। পছন্দমত জিটিকে বা এমেরাল্ড থিম ব্যবহার করা যায়। বেশ কিছু এমেরাল্ড থিম ডিফল্ট দেয়া আছে।
৫। রুট পাসওয়ার্ড যাতে বারবার প্রয়োগ করতে না হয় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে। ব্যবহারকারী চাইলে প্রথমবার রুট পাসওয়ার্ড দেয়ার সময় ওই সেশনে যাতে আর পাসওয়ার্ড দিতে না হয় সে অপশন নির্বাচন করতে পারেন।
৬। কম্পিজের ডেস্কটপ কিউব প্লাগ-ইন দিয়ে পাশাপাশি চারটা ডেস্কটপ চালানো যায়।

অসুবিধা:
১। উবুন্টুর মত Add/Remove Application ম্যানেজার নেই। সবকিছু সাইনাপ্টিক বা apt-get দিয়ে ইন্সটল করতে হয়। এতে নতুন লিনাক্স ব্যবহারকারীদের কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।
২। ডেবিয়ান প্যাকেজ সরাসরি ইন্সটল করা যায় না। তবে প্রয়োজনীয় কনফিগারেশন করে নিলে ইন্সটল করা যেতে পারে।
৩। বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট ইন্সটলের সময় বাংলা ফন্ট ইন্সটল হয় না। আলাদাভাবে বা সাইনাপ্টিক দিয়ে ইন্সটল করে নিতে হয়।
৪। সাউন্ড সাপোর্টে কিছুটা সমস্যা আছে। আলসা কনফিগ চালিয়ে এবং সব কোডেক ইন্সটল করার পরও আমার সাউন্ড কার্ডে কোন শব্দ পাচ্ছি না। তবে ড্রিমলিনাক্স ফোরামে অভিযোগ করলে সমাধান পাওয়া যেতে পারে।

সবশেষে বলা যায়…. নতুন প্রজন্মের জন্য এবং বিনোদনপ্রিয় ব্যবহারকারীদের জন্য একটি চমৎকার অপারেটিং সিস্টেম হতে পারে ড্রিমলিনাক্স ৩.০। যাদের কম্পিউটারে উবুন্টু চালানোর জন্য পর্যাপ্ত Ram বা প্রসেসর নেই তারাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। হার্ডডিস্ক ছাড়াই কম্পিউটার চালাতে পারবেন ড্রিমলিনাক্স লাইভ সিডি বা পেন-ড্রাইভ সংস্করণ দিয়ে। এছাড়াও এতে অন্যান্য লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনের মতই ফ্র্যাগমেন্টেশনবিহীন ext3 ফাইল সিস্টেম, বাংলা ভাষার সমর্থন, উচ্চগতি এবং সিস্টেম রিসোর্সের সুষ্ঠু ব্যবহার, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ইত্যাদি সব সুবিধাই আছে।

ড্রিমলিনাক্স ৩.০ বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন এই সাইট থেকে…

উবুন্টু বনাম উইন্ডোজ- কেন লিনাক্স ব্যবহার করবেন?

উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের অনেকেই লিনাক্স ব্যবহার করতে ভয় পান একে জটিল এবং অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি অপারেটিং সিস্টেম ভেবে। তাদের ধারণা পুরোপুরি ভুল নয়… একসময় সত্যিই তাই ছিল। কিন্তু এখন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি হয়েছে উবুন্টু লিনাক্স যা উইন্ডোজের চেয়েও অনেক সহজ এবং ব্যবহারবান্ধব।

এখানে উবুন্টু লিনাক্সের কিছু সুবিধা তুলে ধরছি, এবং একই সাথে উইন্ডোজের দূর্বলতাগুলো উল্লেখ করছি…

নিরাপত্তা:

লিনাক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উইন্ডোজের চেয়ে অনেক উন্নত এবং নিশ্ছিদ্র। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এন্টিভাইরাস এবং ফায়ারওয়াল ইন্সটল করা না থাকলে ভাইরাস/হ্যাকারের আক্রমণ প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু লিনাক্সের সিস্টেম কার্নেল ভাইরাস এবং হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে পুরোপুরি মুক্ত। কাজেই কোন ধরণের সিকিউরিটি সফ্টওয়্যার(এন্টিভাইরাস/ফায়ারওয়াল ইত্যাদি) ছাড়াই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন উবুন্টু লিনাক্স।

স্বয়ংসম্পূর্ণ:

অনেকেই মনে করেন উইন্ডোজ লিনাক্সের চেয়ে অধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু এ ধারণা পুরোপুরি ভুল। উইন্ডোজের কোন সিস্টেম ফাইল মুছে গেলে বা ভাইরাসের আক্রমণে সিস্টেম কার্ণেলের কোন অংশের ক্ষতি হলে উইন্ডোজ নিজে থেকে ঠিক করতে পারে না, ব্যবহারকারীকে ট্রাবলশুট করে ঠিক করতে হয়। আর পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়া উইন্ডোজের অনেক ত্রুটি ঠিক করা সম্ভব নয়। ফলে একমাত্র সমাধান- উইন্ডোজ রি-ইন্সটল। এছাড়াও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এনটিএফএস ফাইল সিস্টেমের ক্ষতি হলেও উইন্ডোজ অনেক সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে chkdsk কমান্ড ব্যবহার করে না। এর ফলে প্রয়োজনীয় ফাইল ও ডকুমেন্ট সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থেকে যায়।

অপরদিকে উবুন্টু লিনাক্সে এ ধরণের কোন সমস্যা উইন্ডোজের তুলনায় অনেক কম। কোন কারণে সমস্যা হলেও উবুন্টুর বুট মেনু থেকে রিকভারি মোড চালু করলে উবুন্টু নিজে থেকে সম্ভাব্য সবধরণের সমস্যা খতিয়ে দেখে এবং নিজে থেকেই সবকিছু ঠিক করে নেয়, ব্যবহারকারীকে কিছুই করতে হয় না। ফাইল সিস্টেমের সমস্যা হলে উবুন্টু সেটিও ঠিক করে নেয়।

এছাড়াও উইন্ডোজে সব ধরণের হার্ডওয়্যারের ড্রাইভার ডিফল্ট দেয়া থাকে না… খুঁজে নিয়ে ইন্সটল করতে হয়। আর লিনাক্সে বহু ড্রাইভার ডিফল্টভাবেই দেয়া থাকে।

ব্যবহারবান্ধব:

উবুন্টু লিনাক্স উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের চাইতে অনেক সহজ এবং ব্যবহারবান্ধব। উবুন্টুতে সব কাজের জন্য আলাদা-আলাদা বিভাগে বিভক্ত করা সফ্টওয়্যার ইন্টারনেটে রিপোজিটরিতে জমা থাকে এবং উবুন্টুর এ্যাপ্লিকেশন ম্যানেজার ব্যবহার করে ব্যবহারকারী পছন্দমত সফ্টওয়্যার ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে পারেন। স্ক্রিণশট দেখুন…

চিত্র: উবুন্টু এ্যপ্লিকেশন ম্যানেজার(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন)

উবুন্টুর সফ্টওয়্যারগুলো ইন্সটল করতে কোন ধরণের প্রোগ্রামিং দক্ষতার প্রয়োজন নেই।

উবুন্টুর ডেস্কটপ উইন্ডোজের চাইতেও অনেক কার্যকরী, সহজে পরিবর্তনযোগ্য এবং ব্যবহারবান্ধব। উইন্ডোজের টাস্কবারের বিকল্প হিসাবে উবুন্টুতে আছে প্যানেল নামে উইন্ডোজ টাস্কবারের চাইতেও অধিক ক্ষমতাসমন্ন ডেস্কটপ বার। এগুলোতে আপনি ইচ্ছামত সফ্টওয়্যারের শর্টকাট তৈরি করে নিতে পারেন, বিভিন্ন এ্যাপলেটের সাহায্যে ডেস্টপকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন, আর সেই সাথে উইন্ডোজ টাস্কবারের মত উইন্ডো লিস্ট এবং নোটিফিকেশন এড়িয়া তো থাকছেই!

নিচের ছবিটি দেখুন….

চিত্র: উবুন্টু ডেস্কটপ(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন)

ডেস্কটপ যে এমনই হতে হবে এরকম কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এটা আমার নিজের ডেস্কটপ… উবুন্টুতে ডিফল্টভাবেও এরকম দেয়া থাকে না। আপনি পছন্দমত ডেস্কটপে বিভিন্ন আইকন, এ্যাপলেট, নোটিফিকেশন এড়িয়া সংযোগ/অপসারণ করতে পারবেন। নিচের ছবিটি দেখলে এ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন…


চিত্র: প্যানেলের জন্য আইকন তালিকা(বড় আকারের স্পষ্ট ছবি দেখতে ছবির উপর ক্লিক করুন)

এছাড়াও উবুন্টুতে একই সাথে দুটি বা তার অধিক ডেস্কটপ/ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করতে পারবেন।

দ্রুততা:

কিছু ত্রুটির কারণে উইন্ডোজ ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে পরে। এ ত্রুটিগুলোর মধ্যে হার্ড ডিস্কের এলোমেলো ফাইলসজ্জা(ফ্র্যাগমেন্টেশন), রেজিস্ট্রির অব্যবহৃত অংশ (Obsolete Registry Entries) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বিভিন্ন ভাইরাস ও স্পাইওয়্যারের আক্রমণের কারণেও উইন্ডোজের গতি হ্রাস পায়।

অপরদিকে লিনাক্সের ext3< ফাইল সিস্টেমে বিশেষ পদ্ধতেতে ফাইলগুলো সজ্জিত করে… ফলে ফ্র্যাগমেন্টেশনের কোন সম্ভাবনা নেই। আর উবুন্টু উইন্ডোজের মত অব্যবহৃত রেজিস্ট্রি এন্ট্রি জমা করে রাখে না। উবুন্টুতে ভাইরাস/স্পাইওয়্যার কোনটিই আক্রমণ করতে পারে না। ফলে বহুদিন ব্যবহারের পরও উবুন্টুর স্বাভাবিক গতি ও কর্মক্ষমতা বজায় থাকে। যেখানে উইন্ডোজ ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে পরে।

গ্রাফিক্যাল ইফেক্ট:

উবুন্টু লিনাক্সে রয়েছে অসাধারণ কম্পিজ ফিউশন ইফেক্ট। যার দ্বারা দৃষ্টিনন্দন উইন্ডো এনিমেশনের পাশাপাশি অত্যন্ত কার্যকরী কিছু ইফেক্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে ট্যাব গ্রুপিং, উইন্ডো ট্রান্সপারেন্সি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ট্যাব গ্রুপিং এর সাহায্যে আপনি কয়েকটি উইন্ডোকে ট্যাব আকারে একত্র করে রাখতে পারবেন এবং উইন্ডো ট্রান্সপারেন্সি ইফেক্টের সাহায্যে যেকোন উইন্ডোকে স্বচ্ছ(ট্রান্সপারেন্ট) করে ফেলতে পারবেন। এগুলো ছাড়াও আরও বহু ইফেক্ট ডিফল্টভাবে দেয়া আছে এবং প্রতিদিন নিত্যনতুন ইফেক্ট ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ডাউনলোডের জন্য দেয়া হচ্ছে।

অপরদিকে উইন্ডোজের নতুন সংস্করণ উইন্ডোজ ভিস্তাতে কিছু গ্রাফিক্যাল ইফেক্ট আনা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই কোন কাজের নয়। এছাড়াও ভিস্তার ইফেক্টগুলো সক্রিয় রাখলে প্রচুর সিস্টেম রিসোর্স (Ram, প্রসেসর) ব্যবহার করে যেখানে উবুন্টুর ইফেক্টগুলো সক্রিয় রাখলেও উইন্ডোজ এক্সপির চাইতেও অনেক কম সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহার করে।

সকল কাজের জন্য পর্যাপ্ত সফ্টওয়্যার:

উবুন্টুতে সকল কাজের জন্যই পর্যাপ্ত সফ্টওয়্যার আছে। উইন্ডোজের মত লক্ষ-কোটি নামী বেনামী সফ্টওয়্যার না থাকলেও এ সফ্টওয়্যারগুলো অত্যন্ত সহজ, সাবলীল এবং উইন্ডোজের সফ্টওয়্যারগুলোর মতই বিভিন্ন ধরণের কাজের উপযোগী।

যেমন: মাইক্রোসফ্ট অফিসের বিকল্প হিসাবে আছে ওপেন অফিস অর্গ, ফটোশপের বিকল্প হিসাবে আছে অসাধারণ একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ফটো এডিটিং সফ্টওয়্যার গিম্প, ডিভিডি/ভিসিডি মুভি দেখার জন্য টটেম, ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার, গান শোনার জন্য রিদমবক্স, বংশি, লিসেন(Listen Music Player) বংশী এবং রিদমবক্সের মত তেমন জনপ্রিয় না হলেও এটা আমার সবচেয়ে প্রিয়), এডোবি রিডারের বিকল্প হিসাবে আছে কেপিডিএফ, এক্সপিডিএফ, ডকুমেন্ট ভিউয়ার ইত্যাদি। এরকম সব ধরণের সফ্টওয়্যারের-ই অসংখ্য বিকল্প আছে উবুন্টুতে… এবং সবগুলোই পুরোপুরি বিনামূল্যে!

বাংলা ভাষার ব্যবহার:

উবুন্টু লিনাক্সের জন্য রয়েছে বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাক, যেটি শুধুমাত্র অপারেটিং সিস্টেমকেই বাংলা করে না বরং বিভিন্ন সফ্টওয়্যারকেও অনেকাংশে বাংলায় অনুবাদ করে। বাংলা লেখার জন্য উবুন্টুতে আছে অত্যন্ত চমৎকার প্রভাত ফোনেটিক লে-আউট। অভ্রে অভ্যস্থতার কারণে প্রথমদিকে প্রভাতে লিখতে সমস্যা হলেও এখন সে সমস্যা কাটিয়ে উঠেছি এমনকি এই আর্টিকেল পুরোটাই প্রভাত দিয়ে লিখছি।

এগুলো ছাড়াও উবুন্টু লিনাক্সে আরও অনেক সুবিধা রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ লিনাক্স ব্যবহারকারীরা আরও ভাল বলতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হল লিনাক্স পুরোপুরি ফ্রি এবং ওপেন সোর্স এবং এতে ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলোও বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আর উইন্ডোজ টাকা দিয়ে কিনতে হয় এবং এর সব সফটওয়্যারও ফ্রি নয়।

এবার আপনিই সিদ্ধান্ত নিন… টাকা দিয়ে কিনে বা চুরি করে ত্রুটিসম্পন্ন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করবেন নাকি বিনামূল্যে বিশ্বের সবচাইতে নিরাপদ অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স এর ব্যবহারবান্ধব সংস্করণ উবুন্টু লিনাক্স ব্যবহার করবেন।